মঙ্গলবার , আগস্ট ১১ ২০২০
Home / ভ্রমন / যেসব দর্শনীয় স্থানে উপভোগ্য হবে আপনার বৃষ্টিবিলাস!

যেসব দর্শনীয় স্থানে উপভোগ্য হবে আপনার বৃষ্টিবিলাস!

বৃষ্টির দিন বলতেই আমরা ধরে নিই কাদা, পানি, স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। এর মধ্যে আবার বেড়ানো? ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু দূরে কোথাও ভ্রমণের কথা মাথায়ই আসে না আমাদের। অথচ আপনি জানেন কি, কিছু জায়গা রয়েছে এমন যার রূপ খোলে বর্ষাতেই? গ্রীষ্ম বা শীতে শুকিয়ে কাঠ, কিন্তু বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় জায়গাগুলো।

জেনে নিন, কোথায় কোথায় গেলে সবচেয়ে উপভোগ্য হবে আপনার বৃষ্টিবিলাস!

১। বিছানাকান্দি

ছবি দেখেই নিশ্চই আন্দাজ করতে পারছেন বিছানাকান্দির রূপ। কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে জায়গাটি। তবে বর্ষা ছাড়া অন্য ঋতুতে গেলে হতাশ হতে হবে আপনাকে। বিছানাকান্দি ভারত এবং বাংলাদেশের বর্ডার এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১০০ গজ দূরে থাকা লাল পতাকাগুলোর সারি জানান দেয় যে ওপাশেই ভারত। এখান থেকে সহজেই ভারতীয় জলপ্রপাত গুলো দেখা যায় যা থেকে পানি বয়ে আসে বিছানাকান্দি পর্যন্ত। পাথর, পানি, পাহাড় আর আকাশ। পা ডুবিয়ে বসে থাকতে থাকতে মনে হয়, জীবনে বোধ হয় আর কিছু চাওয়ার নেই। তবে ভীড় এড়াতে ছুটির দিনগুলোয় না যাওয়াই ভাল

২। রাতারগুল

রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর। মাঝখানে রাতারগুল। বর্ষায় বনে পানি থাকে, অন্য সময় শুকিয়ে যায়। তাই রাতারগুলের রূপ অবলোকন করতে হলে বর্ষাই শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় ছোট নৌকায় করে ভেসে বেড়াতে পারবেন বনে। উপভোগ করতে পারবেন জলে বনের প্রতিবিম্ব। অসংখ্য নাম না জানা গাছের সমারোহ এখানে। একদম নীরব পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় চোখে পড়বে বানর, সাপ সহ নানান রকম প্রাণী।

৩। খৈয়াছড়া ঝর্ণা:

পাহাড়ের সবুজ রং আর ঝর্ণার স্বচ্ছ জল মিশে মিশে একাকার হয়েছে মীরসরাইয়ের প্রাকৃতিক জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝর্ণায়। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এ ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। যারা একবার খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখেছেন তাদের মনে একটিই প্রশ্ন উঁকি দেয়

বার বার ‘দেশে এমন সৌন্দর্যের ঝর্ণা দ্বিতীয়টি আর আছে কিনা’। এমনই এক নান্দনিক ঝর্ণা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে যা খৈয়াছড়া ঝর্ণা নামেই পরিচিত। এখানে আসা অনেক পর্যটকের মতে, দেশের মাধবকুন্ড ও শুভলং ঝর্ণার থেকেও বেশি রূপ এটির। তাদের কথায়, শুধুমাত্র সরকারের অবহেলায় এটি সর্বত্র অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে ঝর্ণার অবস্থান। এর মধ্যে ১ কিলোমিটার পথ গাড়ীতে যাওয়ার পর বাকী পথ যেতে হবে পায়ে হেঁটে।

৪। হাম হাম ঝর্ণা:

জলপতনের যে শব্দ স্হানীয় ভাষায় তার উচ্চারন – হাম হাম ।৭ হাজার ৯শ ৭০ একর আয়তনের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চল -শ্রীমঙ্গলের কুরমা বন বিটের পাহাড়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ন্যাশনাল টি কোম্পানির চাম্পারায় চা বাগান আর পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তাঞ্চল। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে দুর্গম পথের শেষে বনের মাঝে অবস্থিত এ জলপ্রপাতটি। বর্ষায় প্রচন্ড জলের ধারা মুগ্ধ করবে আপনাকে। অন্য ঋতুতে গেলেও হাম হাম দেখতে পাবেন। কিন্তু বর্ষার তুলনায় তা কিছুই নয়।

৫। জাফলং

পাহাড়, টলটলে স্বচ্ছ পানির ধারা আর পাথরের মিতালী জাফলং। ছবিতে যে ব্রীজটি দেখতে পাচ্ছেন এর নাম ডাউকি ব্রীজ। দুই পাহাড়ের মাঝে সংযোগ তৈরি করতে বানানো হয়েছে ব্রীজটি। জাফলং এর ঘন সবুজ বনাঞ্চল মুগ্ধ করবে আপনাকে। পাশেই আছে খাসিয়ে পল্লী, ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও। আপনি চাইলে আমাদের সিলেট প্যাকেজটি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন।

এসএম/দুর্বার২৪

আরও পড়ুন

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বাড়ছে পর্যটকদের ভীড়

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) থেকে : দেশের পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে শুধু কুয়াকাটাকে খোলা পেয়ে এ সুযোগ …