বুধবার , অক্টোবর ২৮ ২০২০
Home / ভ্রমন / মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি

মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি

 

 

 

সাজেক ঢাকা থেকে মাত্র ৭/৮ ঘণ্টা দূরত্বে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙ্গামাটি জেলায় সৌন্দর্য ও রূপবতী কন্যা সাজেক ভ্যালীর অবস্থান। মেঘের রাজ্য সাজেক। সবাইকে বলতে শুনা গেছে যে সেখানে গেলে নাকি আকাশের শুভ্র সাদা কালো মেঘকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়! সাজেক গেলে মনের অজান্তেই গুন গুন করে গাইতে ইচ্ছে হবে- “আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, মেঘ ছুঁয়েছে পাহাড়! ঝর্না ছুঁয়েছে নদীকে, বিস্তৃত উঁচু পাহাড়” সবুজ লতাপাতা আর পাখ-পাখালিতে ভরা এর বন বাদার। মনে হচ্ছে মেঘ বালিকাগুলো এই এখনি নুয়ে পড়ছে। পৃথিবীর এ যেন এক মনোরম ভু-স্বর্গ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধারে ঘেরা সাজেক।

  

 

বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে সব চেয়ে পছন্দের ও আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে সাজেক। ছবির মতো সাজানো এই সাজেক। দিনে অন্তত ২ বার এই পুরো এলাকা ঝাড়ু দেওয়া হয়। এততাই পরিষ্কার পরিছন্ন থাকে যে ১টি পাতাও আর থাকে না সেখানে। তাই হঠাৎ কেউ দেখলেই একে স্কটল্যান্ড বা ইংল্যান্ড ভেবে ভুল করবে। সম্পূর্ণ রঙিন সাজে সজ্জিত এই সাজেক। এখানে অনেক সস্তায় পেপে, আনারস, কলা ইত্যাদি বহু ফল পাওয়া যায়। আর হ্যা,পথের প্রান্তরে ডাব, আখ আর পেঁপে খেতে ভুলবেন না কখনো! কেননা এখানকার ডাবে প্রচুর পানি ও আখ অনেক মিষ্টি। চারিদিকের মনোরম সারিবদ্ধ পাহাড়, শুভ্র তুলোর মতো মেঘের ভ্যালী। এক দিনে তিন রকম রূপের সান্নিধ্যের ছোঁয়া সহজেই পাওয়া সম্ভব এখানে।

কখনো খুব গরম, আবার হঠাৎ বৃষ্টিতে ভেজা! অথবা চোখের পলকে মেঘের ঘন কুয়াশায় চাদর ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও তুলোর মতো মেঘের পাহাড় দেখতে চাইলে সাজেক ভ্রমণ আদর্শ। সাজেক ভ্যালির অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। মূলত হ্যালিপ্যাড এখানেই অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলার উত্তরে মিজোরাম সীমান্ত অবস্থিত। যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গ মাইল। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিনে রাঙামাটির লংগদু,পূর্বে ভারতের মিজোরাম আর পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। আর এই দিঘীনালা থেকেই সাজেকের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। বাঘাইঘাঁট থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৩৪ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার।

সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থান হলেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে যাতায়াত অনেক সহজ ও সময় কম লাগে। বলে রাখা ভালো যে সাজেক যেতে হলে অবশ্যই বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে যেতে হয়। সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান এখানে ঘুরার জায়গার অভাব নেই। মন খারাপের দিনগুলোয় পাহাড়ের ঢালে আনমনে বসে মনে করতে পারেন আপনার স্মৃতিজড়িত সেই সব মুহূর্তগুলো। ফিরে পেতে পারেন পুরনো সেই সুন্দর দিনগুলোকে। আছে চায়ের দোকানে আদিবাসিদের সাথে খোশগল্প করার অতৃপ্ত সুযোগ।

আছে দোলনা, যেখানে প্রিয় সঙ্গীকে নিয়ে মৃদু বাতাসে দোল খেয়ে কাটিয়ে দিতে পারেন সারাটি দিন। সাজেক ভ্রমনের সর্ব প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কংলাক।মুলত কংলাক পার থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি স্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়।দিন কিংবা রাত,সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা স্বচ্ছ ছবির মত। সময় গড়ায় তবুও সাজেক পুরাতন হয় না। দেখে মনে হয় যেন দিন রাত নতুন রূপে সজ্জিত হতে থাকে! সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাজাছড়া ঝর্না বৌদ্ধ বিহার আলুটিলা গুহা কমলক ঝর্না পশ্চিমের গ্রাম শিব মন্দির সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই পোস্ট ভিজিট করুন সাজেক ভ্যালি ও খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান সাজেক যাবার সময় মোট তিনটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প পাড় হতে হয়। প্রবেশ মুখ থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটারের রাস্তা।

এই দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে স্থানীয়দের বাড়ি ঘর ও বাকিটা আর্মি এবং বিজিবি ক্যাম্প, হ্যালিপ্যাড, রুন্ময়, রিসোর্ট, অন্যান্য স্থাপনা পুরা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সেনা ও বিজিবি সদস্যগন পুরো এলাকাটিকে প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে সুন্দর করার চেষ্টা করছেন সবাই। গাড়িতে থাকা অবস্থাতেই দেখা মিলবে কিছু দূর পর পর আদিবাসিদের ছোট ছোট বাড়িঘর।বাড়ির উঠানে আদা-মেটে আলুর স্তূপ। নারী- পুরুষ বসে বসে হুক্কা টানা ও তাশ- লুডু খেলায় মগ্ন সকলে। ছোট ছোট বাচ্চারা যখন আপনাকে দেখে হাত নাড়বে দেখে মনে হবে যেন তারা আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে সাজেক ভ্যালীতে প্রবেশে পথে! কি যে এক ভালো লাগার অনুভুতি,বলে শেষ করা যাবে না।

এখানকার আদিবৌদ্ধবাসিরা সাজেক কে রুইলুই পাড়া নামে ডাকে। আর হ্যা, হ্যালিপ্যাড থেকে সূর্যাস্ত দেখতে মিস করবেন না কেউ। কেননা প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য নিজ চোখে দেখতে হলে সেটাই আসল সময়। রাতের অন্ধকারে রিসোর্টে ব্যাগ ফেলে যখন শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত তখনি অনেকে বারান্দায় বসে রিসোর্টের বাহিরে অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকৃতিতে সারি সারি শুভ্র পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে!!! সাজেক ভ্যালির সবচেয়ে প্রধান আকর্ষণ সাজেক যাওয়ার সবচেয়ে মজার ও প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে তার চান্দের গাড়ি! একসাথে ১২ থেকে ১৫ জন বসা যায় এই গাড়িতে। ভাড়া একটু বেশি হলেও এ গাড়িতে করেই সাজেক যাওয়া লাগে।

চান্দের গাড়ির ছাদে পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমনের মজাই আলাদা। যে তৃপ্তি কক্সবাজার বীচের সূর্য স্নান ও রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজের মধ্যে নেই। তাই তো শরৎ বাবু তার বিলাসি গল্পে লিখেছেন জিবনে যে একবারও চান্দের গাড়ির ছাদে পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমণ করে নি,তা সে যতোই বাজার বীচে সূর্য স্নান করুক বা রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজে ঝুলে থাকুক তাদের সাধ্যি নাই, কেন মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে চান্দের গাড়ির ছাদে উঠে তার কারন বুঝে!!!” পাহাড়িয়া হোটেল গুলোতে দেখা যায় সেখান কার আদিবাসিদের হুক্কা! দেখা যায় লম্বা বাশের তৈরি হুকা খাচ্ছে আর মুখ দিয়ে সেই হুকার ধোঁয়া বেরুচ্ছে।

পথের ধারে আছে বাংলার প্রাচীন বহু প্রয়োজনীয় জিনিস। সাজেক যাওয়ার উপযুক্ত সময় প্রায় সারা বছর বর্ণিল রূপে সাজে সাজেক। বর্ষা,শরৎ ও হেমন্তে মেঘের ভেলায় ভাসতে চাইলে তখন যাওয়া সব থেকে ভালো। এ সময় টা ভ্রমনের জন্য খুব উপযোগী। সাজেকে টিকেট মূল্য জন প্রতি মাত্র ২০ টাকা। আর গাড়ি পার্ককিং এর জন্য ১০০ টাকা দিতে হয়। সাজেকে কোথায় থাকবেন ? সাজেক ভ্যালিতে অনেক কম খরচে রিসোর্ট (Resort) পাওয়া যায়। তবে খরচ আরও কমাতে চাইলে রাতে সেখানে ক্যাম্পিং করে ঘুমাতে পারেন।

সাজেকের জনপ্রিয় রিসোর্ট ও কটেজের মধ্যে অন্যতম হলো লুসাই কটেজ সপ্নচূড়া রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট রুন্ময় রিসোর্ট মেঘ মাচাং জুমঘর ইকো রিসোর্ট মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট রিসোর্ট রুংরাং আলো রিসোর্ট আদিবাসি ঘর সারা রিসোর্ট সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: সাজেকের সকল জনপ্রিয় রিসোর্ট ও কটেজের তথ্য। সাজেক কিভাবে জাবেন ভাবছেন??? খুব কম সময়ে ও সল্প খরচে কিছু দিনের জন্য ঘুরে আসুন সাজেক থেকে।যেখানে যে একবার যাবে তার বার বার সেখানে যেতে ইচ্ছে করবে। সাজেক ভ্যালি

প্রান ভরে নিতে ইচ্ছে করবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন। সাজেক বিভিন্ন উপায়ে যাওয়া সম্ভব। ঢাকা থেকে সাজেক: ঢাকার কলাবাগান থেকে শ্যামলী পরিবহন বা হানিফ বাসে করে সরাসরি যেতে পারেন খাগড়াছড়ি। ভারা নিবে ৫২০ টাকা।সেখান থেকে শাপলা চত্বর থেকে চান্দের গাড়ি ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন আপনার সপ্নের রাজ্যে সাজেকে! খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক : খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সাজেক যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ি নামতে হবে। ঢাকার গাবতলি ও কলাবাগান থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি বাস আছে। সৌদিয়া, শ্যামলী পরিবহন, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল ইত্যাদি বাসে করে সরাসরি যেতে পারবেন। ভাড়া জন প্রতি নন এসি ৫২০ টাকা আর এসি বাসে যেতে চাইলে বি আর টি সি বাসে ৭০০ টাকা করে নিবে। খাগড়াছড়ি বাস স্টপ নামাবে। সেখান থেকে টমটমে ১০ টাকা ভাড়া করে শাপলা চত্বর যাওয়া যায়। সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাপলা চত্বর থেকে চান্দের গাড়ি অথবা জিপ গাড়ি ভাড়া করতে হয়।

বলে রাখা ভালো যে চান্দের গাড়ি ভাড়া করার সময় অবশ্যই দরদাম করে নিবেন এবং ড্রাইভারকে আগে থেকে বলে রাখবেন কি কি দেখাতে নিয়ে যেতে হবে। চান্দের গাড়ি ৭১০০ টাকা আর ড্রাইভার খরচ আরও ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে নিতে হবে। আর জিপ গাড়ি ভাড়া নিলে আর ১০০০ টাকা কম দিলেই নিতে পাবেন।। চট্টগ্রাম থেকে সাজেক: চট্টগ্রাম এর কদমতলি থেকে বি আর টি সি এর এসি বাস আছে। ভাড়া ২০০ টাকা মাত্র। এছাড়া চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোর থেকে প্রতি ঘণ্টায় শান্তি পরিবহনের বাসে যেতে পারেন।

ভাড়া মাত্র ১৯০ টাকা নিবে। আর চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক: রাঙ্গামাটি থেকে নৌ পথ বা সড়ক পথ উভয় পথেই এই বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। লঞ্চ ঘাঁট থেকে জন প্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা নিবে ।নামবেন বাঘাইছড়ি। এছাড়াও রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭ঃ৩০ থেকে ৮ঃ৩০ এই সময়ের মধ্যে বাস ছাড়ে। ভাড়া জন প্রতি ২০০ টাকা। বাঘাইছড়ি থেকে সরাসরি জিপ বা চান্দের গাড়ি করে সরাসরি চলে আসতে পারেন সাজেক।

সুত্র:

এসএম/দুর্বার২৪

 

 

দদদ

আরও পড়ুন

উদ্ধোধনের অপেক্ষায় “হাওড়ের বিস্ময়” সড়ক

হাওরের বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ‘অল-ওয়েদার’ সড়ক উদ্বোধন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিচ্ছিন্ন …