রবিবার , সেপ্টেম্বর ২৭ ২০২০
Home / জানা-অজানা / মাটির নিচে এক অদ্ভুত গ্রাম

মাটির নিচে এক অদ্ভুত গ্রাম

ফিচার: নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার, অত্যাধুনিক স্থাপনার কারণে চীনের অনেক শহর গোটা পৃথিবীতে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। তবে চীনে এমন একটি রহস্যময় প্রাচীন গ্রামও রয়েছে যেটা তার বিচিত্র স্থাপনার জন্যও বিখ্যাত হয়ে আছে। চীনের হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় রয়েছে অদ্ভুত এই গ্রামটি।

আমরা জানি মাটির ওপরে ঘর বাড়ি বানিয়ে থাকে অথচ চীনে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে বাড়িগুলো বানানো হয়েছে মাটির নিচে। প্রায় ৪০০০ (চার হাজার) বছর আগে গড়ে ওঠা গ্রামটি মাটির নিচের গ্রাম বলেও পরিচিত। গ্রামটির অবস্থান মাটির ২২ থেকে ২৩ ফুট নিচে বা গভীরে। ওপর থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, মাটি থেকে প্রায় ২৩ ফুট গভীরে বসবাস করছে একটি গ্রাম, পুরো গ্রামটাই গড়ে উঠেছে মাটির নিচে। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির স্থাপত্য পরিকল্পনা এক কথায় অসাধারণ।

প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে মাটির নিচেই বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন হাজার কয়েক মানুষ। সানমেনশিয়া এলাকার এমন অদ্ভুত ১০ হাজার ঘরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই এখন পরিত্যক্ত। মাটির নিচে তৈরি এই ঘরগুলিকে চীনা ভাষায় বলা হয় ইয়ায়োডং,যার অথ হলো গুহাঘর। ঘরগুলোতে তাপমাত্রা শীতকালে ১০ ডিগ্রীর কম হয় না আর গ্রীষ্মের সময় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে না। তবে আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাবে এবং প্রতিকুল জীবনযাত্রার চাপে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

এই ঘরগুলো লম্বায় ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঐতিহাসিকদের মতে, হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় ইয়ায়োডং য়ে বসবাসের ইতিহাস ২০০ বছরের বেশি প্রাচীন নয়। তবে চীনের পাবত্য এলাকায় আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে,ব্রোঞ্জ যুগে এ ধরনের গুহা ঘর তৈরি করে বসবাস করতেন একদল মানুষ। তবে গ্রামটি মাটির নিচে হলেও এখন এখানে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধার রয়েছে। এখন এখানে প্রায় ১০ হাজার বাড়ি আছে। জানা গিয়েছে গ্রামটি এমন ভাবে নকশা করা হয়েছে যে এটা ভূমিকম্প ও বাইরে থেকে আসা শব্দদূষণ প্রতিরোধ করতে পারে। এই গ্রামে সব শ্রেণীর মানুষই বসবাস করে।

গ্রামের কিছু অধিবাসী ধনী হওয়ার তাদের বাড়ি গুলো আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত করা আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামটির নকশা একই সাথে নান্দনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত। এই গ্রামের বাড়িগুলোতে যে দেয়াল আছে সেসব এতটাই পুরু যে বন্যাও সহ্য করতে পারে। মাটির নিচের এই বাড়ি গুলো গ্রামটিকে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করে। গ্রামটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে ২০১১ সাল থেকে এটি সংরক্ষণের ব্যাবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন। এই সময় মাটির নিচের এই ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ সহ সব রকম আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

সেই সাথে বহিরাগতদের থাকার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ঘর গুলোর জন্য এই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে অনেক গুন। পর্যটকদের জন্য এখন ইয়ায়োডং ভাড়া দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। এক মাসের জন্য ভাড়ায় এই ইয়ায়োডং এ থাকতে হলে গুনতে হবে ২১ ইউরো। পছন্দ হলে কিনে নেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এ রকম গুহা ঘর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই ইয়ায়োডং এর দাম ৩২ হাজার ইউরো।

এসএম/দুর্বার২৪

আরও পড়ুন

পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে সিগারেট-বিড়ির পোড়া টুকরা

ভারতের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সিগারেটের শেষ অংশে থাকা সেলুলোজ অ্যাসিটেটের মাত্র ৩৭.৮%ই নষ্ট হয় …