মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২১
শিরোনাম
Home / সারাদেশ / বরিশাল / বরগুনা / ভোট না দেয়ায় পুলিশের সামনেই যুবককে পেটালেন চেয়ারম্যান

ভোট না দেয়ায় পুলিশের সামনেই যুবককে পেটালেন চেয়ারম্যান

ডেস্ক রিপোর্টঃ ইউপি নির্বাচনে ভোট না দেয়ায় এক দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারসহ একাধিক পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেয়া এবং বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। হুমকির পরেও গ্রাম না ছাড়ায় পুলিশের সামনেই লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে নির্মম নির্যাতন করেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার। একই সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ছোট্ট চায়ের দোকানটিও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। এমনটাই অভিযোগ করে ভুক্তভোগী অসীম চন্দ্র শীল। অসীম বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

জানা যায়, বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অসীম চন্দ্র শীল। রাজধানীর একটি সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করেন তিনি। তার দরিদ্র পিতা শ্রী বিমল চন্দ্র শীল স্থানীয় বৈকালিন বাজারের একজন ক্ষুদ্র চায়ের দোকানী। করোনা মাহামারির কারনে বেশ কয়েক মাস ধরে নিজ গ্রামের বাড়ি চলে আসেন অসীম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার ও তার ক্যাডার বাহিনী ভোট না দেয়ার অভিযোগ তুলে পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিতে থাকেন। তবুও গ্রাম না ছাড়ায় গত ১৭ জুলাই তার উপর হামলা চালায় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দারকে ও তার সহযোীরা।

এবিষয়ে অসীম চন্দ্র শীল বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নেতা হওয়ায় এবং তার অসংখ্য ক্যাডার বাহিনী থাকায় ভীতবিহ্বল হয়ে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে বৈকালিন বাজারে উপস্থিত হয়ে সকল ভুল ত্রুটির জন্যে ক্ষমা চাইতে নজরুল ইসলাম জোমাদ্দারের কাছে দেখা করতে যাই আমি। এসময় চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর সদস্য ফরিদ (৩৫), বাপ্পি (৪০), ফোরকান (২৬), ইমরাণ (১৭) এবং রাজু জোমাদ্দারসহ (৪০) আরও অনেক লোকজন মিলে আমাকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

অসীম আরও বলেন, এসময় স্থানীয় প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম উজ্জল ও ফকরুল ইসলাম কমল আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেদম মারধর করে হাত ভেঙে দেয় তারা। এ ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে বামনা থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বামনা থানার ওসি বশিরুল আলম। পরে মাথায় রক্তাক্ত জখম নিয়ে পাশবর্তী একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকে আমাকল ধরে এনে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার নিজেই লোহার পাইপ দিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

তিনি আরও বলেন, এসময় এসআই সিদ্দিক ঘটনাস্থলে এবং ওসি বশিরুল আলম ঘটনাস্থল থেকে অল্প কিছু দূরে উপস্থিত ছিলেন। এসআই সিদ্দিকের সামনে নির্মম এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও আমাকে রক্ষা করতে কোন উদ্যোগই নেননি তিনি। একই সময়ে বৈকালিন বাজারে আমার বাবার চায়ের দোকানটিও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার ও তার পোষা ক্যাডার বাহিনী।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার আরেক ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জহিরুল ইসলাম উজ্জল বলেন, মারধরের সময় অসীমকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমাকেও পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার ক্যাডার বাহিনী। নির্বাচনে যারা নজরুল ইসলামকে সমর্থন করেনি তাদেরকে নির্বাচনের পরে খেলা দেখাবেন বলেও নির্বাচন চলাকালীন সময়ে হুমকি দেয় তার ক্যাডার বাহিনী।

এ বিষয়ে রামনা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি। বরং অসীম চন্দ্র শীল এবং তার সহযোগীরা তার লোকজনের উপর হামলা চালালে তা প্রতিহত করতে গিয়ে দুএকজন সামান্য আহত হয়ে থাকতে পারে। এর বেশি কিছুই নয়।

এ বিষয়ে জানতে বামনা থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন। তবে কেউই এখনও পর্যন্ত তার কাছে মামলা করতে আসেননি বলেও তিনি জানান।

 

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

সাংবাদিক জামাল মীরের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দেড় বছরধরে কারাভোগকারী দৈনিক দিপাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক বরগুনার …