শুক্রবার , নভেম্বর ২৭ ২০২০
Home / লেখাপড়া / নতুন বইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা
নতুন বইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা

নতুন বইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা

২০২১ সালে প্রাথমিক স্তরের প্রায় ১০ কোটি কপি বই এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর জন্য ব্রেইল বইসহ (৯ হাজার ৫০৪টি) ২৪ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার ৩৪৯টি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এরমধ্যে প্রাথমিক ৯৮টি লট আর মাধ্যমিকে ২১০, ৭৫ এবং ১৭৫ লটের ভাগ করে কাজ দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ৫৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। তারমধ্যে ১০টি বড় প্রতিষ্ঠান মোট কাজের সিংহভাগ করবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপা ও সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে। এসকল বইয়ে কাজ পেতে জোটবদ্ধভাবে সরকারের প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কমে দরপত্র জমা দিয়ে অধিকাংশ কাজ কব্জা করে এখন বইয়ের মান রক্ষা করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানাগেছে।

বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বই ছাপার আগে তিন স্তর এবং পরে এক স্তর মোট চার স্তরের তদারকি করছে পরির্দশন এজেন্সি। শুধু তাই নয়, গভীর রাতে নিম্নমানের বই ছাপানো ঠেকাতে এবার প্রত্যেক প্রেসে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কাগজের ‘বাস্টিং ফ্যাক্টর’ (স্থায়ীত্ব), জিএসএম (উজ্জ্বলতা) কম থাকায় এরইমধ্যে ১০০০ টনের বেশি কাগজ ও আর্টপেপার বাতিল হয়েছে। পরিদর্শন এজেন্সির কড়াকড়িতে নড়েচড়ে বসা অনেক মুদ্রণকারী প্রেস থেকে নিম্নমানের কাগজ সরিয়ে ফেলেছে।

এনসিটিবির তথ্যমতে, ৬ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তুরে ৭৬০টন কাগজ বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে লেটার অ্যান্ড কালার প্রিন্টার্সের ৩০০টন, মোল্লা প্রিন্টার্সের ১৮০ টন, বর্ণ ও শোভা প্রিন্টার্সের ১২৬ টন রয়েছে। বড় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজ পরিদর্শনের আবেদন করলে সেটি আরো বেড়ে যেতে পারে। তবে এজেন্সির কড়াকড়ির বার্তা পাওয়ার পর বড় মুদ্রণকারীরা প্রেস থেকে নিম্নমানের কাগজ সরিয়ে ফেলেছে।এদিকে শিড মেশিনের জন্য এনসিটিবির কেনা ১৩ হাজার মেট্রিক টন কাগজের মধ্যে রোরবার মেঘনা পেপার মিলের ৩০০টন এবং বসুন্ধরা ২০০টন আর্টপেপার বাতিল করা হয়েছে।

সূত্রমতে, মাধ্যমিক স্তুরে প্রায় ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ তদারকি করছে ‘ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথমবারের মত কাজ করতে এসে অনেকটা চমক দেখিয়ে প্রথম ১৫ দিনে ২০টি প্রেসের প্রায় ১০০০ টন নিম্নমানের কাগজ বাতিল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কাগজ বাতিল করায় কিছু অসৎ মুদ্রণ ব্যবসায়ী নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহ নোয়াখালীতে অবস্থিত একটি প্রেসে নিম্নমানের কাগজ বাতিল করায় পরিদর্শন এজেন্সিকে হুমকি দেয়। এজেন্সি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানানোর পর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই প্রেসে নজরধারী বাড়ানো ও পরিদর্শক টিমকে নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশের পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, বইয়ের মান রক্ষায় সরকার কোন আপোস করবে না। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার সুযোগ কাউকে দেয়া হচ্ছে না, হবেও না। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী বই ছেপে সরবরাহ করতে হবে। যাদের বই ছাপায় সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে তাদের বই বাতিল করা হচ্ছে। কেটে ফেলারও নির্দেশও দেয়া হচ্ছে। যাতে নিম্নমানের বই কেউ ব্যবহার করতে না পারে। বইয়ের মান রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। বই নিয়ে কোন অনিয়ম মানা হয়নি, হবেও না। পরিদর্শন টিম এবার বেশ তৎপর। তাই মান রক্ষায় যা যা দরকার সব ধরনের সহযোগিতা তাদের দেয়া হবে।

মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে কাগজের দাম টন প্রতি ৪৫ হাজার টাকা কমলেও গত মাস থেকে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। পেপার মিলগুলো প্রতি টন কাগজ ৬০ হাজার কমে দিচ্ছে না। অথচ বাজারে ৪৫-৪৬ হাজার টন টাকা পাওয়া যায়। গত বছর খোলা বাজারে এসব কাগজ ছাড়পত্র পেলেও একই মানের কাগজ এবার গণহারে বাতিল হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজার মূল্যের চেয়ে কমমূল্য দেখিয়ে দরপত্রে অংশ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে মুদ্রন প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ তাদের অনেকেই এখন কমদামে কাগজ কিনতে না পেরে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার চেষ্টা করছে। তবে আশার বিষয়, নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই গ্রহণ করছে না এনসিটিবি। আবার ছাপাখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, আগের মূল্যে কাগজও সরবরাহ করছেন কাগজ মিল মালিকরা।

এছাড়াও দরপত্রের শর্তবহির্ভূতভাবে প্রাথমিক ছাড়া সকল স্তরের পাঠ্যবইয়ের কভার পেজের ভেতরের পাশেও নতুন করে ছবি ছাপতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে এনসিটিবি। এটি নিয়ে এনসিটিবি’র সঙ্গে ছাপাখানা মালিকদের দ্ব›দ্ব চলছে। কারণ এই অতিরিক্ত কাজের জন্য ছাপাখানার জন্য কোন খরচ নির্ধারণ করা হয়নি। আবার সাধারণ অর্থাৎ শিট মেশিনে একই কভার পেজের দু’পাশ রঙ্গিন ছবি ছাপাতে গিয়ে কাগজ-কালি নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। সব মিলিয়ে পাঠ্যবই নিয়ে বহুমুখী জটিলতা সামনে চলে আসছে। এমন অবস্থায় বইয়ের কাগজ ও ছাপা নিম্নমানের হতে পারে এই আশঙ্কায় উদ্বিঘ্ন এনসিটিবি কর্মকর্তারা।

 

 

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

বেসরকারি সব স্কুলে ভর্তি লটারিতে

বেসরকারি সব স্কুলে ভর্তি লটারিতে

এ বছর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথম …