মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২১
শিরোনাম
Home / ফিচার / থাকার জায়গা নেই,কিস্তি আদায় কেন্দ্রে দিন-রাত কাটছে সুরবালার

থাকার জায়গা নেই,কিস্তি আদায় কেন্দ্রে দিন-রাত কাটছে সুরবালার

গোপাল হালদার, পটুয়াখালী: আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবাই চাও, রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।’ পল্লীকবি জসীমউদ্দীন কবিতায় তিনি যে আসমানীকে তুলে ধরেছিলেন, তিনি আজ বেঁচে নেই। তবে পটুয়াখালী সদর উপজেলার, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হেতালিয়া এলাকার বৃদ্ধা সুরবালা (৯৫) যেন তারই প্রতিচ্ছবি।

নিজের ঘর নেই থাকে গ্রামীণ ব্যাংক কিস্তি আদায় কেন্দ্রে। নেই কাঠের বেড়া, নেই দরজা- জানালা। চৌকি না থাকায় নিচে ঘুমায়। কুড়ানো পলিথিন ও চটের বস্তা দিয়ে ঘেরা স্যাঁতসেঁতে ঘর। শীতের সময় বাতাশ বয়। কবির আসমানী তার পরিবারের সঙ্গে থাকলেও সুরবালা’র একাই বসবাস। নেই তার স্বামী। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হেতালিয়া গ্রামের মৃত সীতানাথের মেয়ে সুরবালা।

তার স্বামী অতুল পাল পাঁচ বছর আগেই মারা যান। হয়ে পড়েন অসহায়, যাওয়ার জায়গা নেই। তিন বছর স্বামীর বাড়ি টেনেটুনে সংসার চালার পরে এবার তিনি যাবেন কোথায়। দুই বছর আগে চলে আসেন বাবার বাড়ি। পৈতৃক সম্পত্তি না থাকায় আশ্রয় নেন গ্রামীণ ব্যাংক কিস্তি আদায় কেন্দ্রে।

জানা যায় তার একটি মেয়ে আছে, থাকেন ভারতে নেই তার সাথে যোগাযোগ। যে ভিটিতে বসবাস করেন সেটা নাকি গ্রামীণ ব্যাংক এর। বয়সের ভারে দিনমজুরের কাজেও যেতে পারে না। আত্মীয়স্বজন নেই পাড়াপড়শির কাছে চেয়ে-চিন্তে খেতে হয়। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি জমে। তখন রাত জেগে বসে থাকতে হয়।

এলাকার বাসিন্দা অভি চন্দ্র জানায়, তার আত্ত্বিয়-সজন বলতে কেউই নেই আমরা সকাল বিকেল যা দেই তা খেয়েই জীবন ধারণ করেন, খাবার না দিলে না খেয়ে থাকেন।

তার ভাষায় ‘হাসিনার কাছ থেকে কত জনে ঘর পাইল, মুই পাইলাম না কিছু।’ একবার খেলে আরেকবার না খেয়ে থাকতে হয়। সাহায্য দেওয়া হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা বিধবা ভাতার কথা বলে পরিচয়পত্র আর ছবি নিয়ে গেছেন। কিন্তু কবে সাহায্য পাবেন তাও তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান মোঃ মুশফিকুর রহমান (মিলন মাঝি) সহায়তার আশ্বাস দেন।

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

বরগুনায় টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় টিকাদন কমসূচী বন্ধ; ভোগান্তিতে টিকাপ্রত্যাশীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বরগুনায় আপাতত টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে …