বুধবার , অক্টোবর ২৮ ২০২০
Home / জানা-অজানা / কিভাবে যাবেন নৈসর্গিক দৃশ্যের টাঙ্গুয়ার হাওর?

কিভাবে যাবেন নৈসর্গিক দৃশ্যের টাঙ্গুয়ার হাওর?

 

চারিদিকে অথৈ জল আর পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্যে ঘেরা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর।মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ বিন্যাস, পাখিদের লকাকলিতে মুখরিত হাওরটি। বিভিন্ন রকমের মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীদের এক বিশাল অভয়াশ্রম টাঙ্গুয়ার হাওর। নলখাগড়া বন, হিজল করচ বনসহ বর্ষাকালে সমগ্র হাওরটির আয়তন দাড়ায় প্রায় ২০,০০০ একর। তবে শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। বর্তমানে এ হাওরে রয়েছে প্রায় ছোট বড় ১৪১ প্রজাতির ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির কচ্ছপ, ৭ প্রজাতির গিরগিটি এবং ২১ প্রজাতির সাপ। তবে শীতকালে সব রেকর্ড ভেঙ্গে হাজার হাজার পাখির মেলা বসে এই বিশাল জলরাশির বুকে। বিলুপ্ত প্রায় প্যালাসেস ঈগল, বৃহদাকার গ্রে-কিংষ্টর্ক, শকুন এবং বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরের অবিস্মরণীয় দৃশ্য। ভ্রমনপিপাসুদের মনের তৃপ্তি বাড়াতে টাঙ্গুয়ার হাওর অতুলনীয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর , সুনামগঞ্জ

টাঙ্গুয়ার হাওর এর সাথে কি কি দেখবেনঃ
১ । টাঙ্গুয়ার হাওর
২ । বারেকের টিলা
৩ । টেকেরঘাট এবং বরছরা
৪। যাদুকাটা নদী
৫ । অদৈত মহাপ্রভুর বাড়ি
৬ । চুনাপাথরের লেক
সুনামগঞ্জ এ কি কি দেখবেনঃ
১ । রিভার ভিউ
২। হাছন রাজার বাড়ি এবং সমাধি
৩ । নারায়ন তলা
৪। ইন্ডিয়ার বর্ডার বাজার
৫ । শাহ আরেফিনের মাজার
৬। গৈরারং জমিদার বাড়ি
৭। আব্দুল করিমের বাড়ি
কি করে যাবেন>>> টাঙ্গুয়া যেতে হলে প্রথমে আপনাকে সুনামগঞ্জ আসতে হবে । দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সুনামগঞ্জ অভিমুখী বাস আসে। সুনামগঞ্জ এসে বোনাস ট্রিপ হিসেবে হাছন রাজার বাড়িটি দেখে নিবেন । এক্ষেত্রে আপনাকে রাতে সুনামগঞ্জ এ রাত যাপন করতে হবে । রাতের বেলায় সুরমা নদীর পারে রিভার ভিউ এর অপরূপ মন ভোলানো রূপটি দেখে নিতে পারেন । পরদিন সকালে হাছন রাজার বাড়ি দর্শন করে সুরমা সেতুর উপর নবনির্মিত আব্দুজ জুহুর সেতুতে আসবেন । সেখান থেকে বড় বাস / বাইক / লেগুনা / সিএনজি করে তাহিরপুর যেতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ।
যদি আপনি মোটর বাইকে তাহিরপুর যান তাহলে এই রাস্তায় শাহ আরেফিনের মাজার , বারেকেরটিলা , যাদু কাটা নদী , লাউরের গর , ইন্ডিয়ার বর্ডার সংলগ্ন অপরূপ কিছু ঝর্না দেখতে পারবেন। তাহিরপুর এ আসার পর সরকারি ডাকবাংলো এবং ইউনও রেস্ট হাউস এ রুম নিতে পারেন ( এক্ষত্রে রুম আগে বুকিং দিতে হয়) । রুম ভাড়া ৩০০ টাকা । আমি নিচে কেয়ারটেকার এর সেল নং দিলাম ।
কৃপেশ ( ডাকবাংলো ) –০১৭২৪-৯৬৮১৬১ বিপেন ( ইউনও রেস্ট হাউস ) – ০১৭৬২-২২৭৯৮০ তাহিরপুর এ ভাল মানের খাবার হোটেল নেই । তবে নিঝুম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এ মাজারি মানের খাবার পাবেন । রাতে গেস্ট হাউস এ থেকে পরদিন সকালে তাহিরপুর নৌকা ঘাটে গিয়ে দরদাম করে টাঙ্গুয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন । নৌকা ভাড়া বারগেনিং করলে ৩০০০ – ৪০০০ এর মধ্যে পাওয়া যাবে ।
দুপুরের খাবারের জন্য তাহিরপুর বাজার থকে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে নিবেন । ৩-৪ ঘণ্টা পুরো টাঙ্গুয়া ভ্রমণ করে যদি সময় থাকে তাহলে মেঘালয় সংলগ্ন গ্রাম এবং গারো পাড়া বাঙ্গালভিটা দেখতে পারেন । আর রাতে নৌকাতে থাকতে চাইলে মেঘালয় সীমান্ত বর্তী গ্রাম বাঘলি তে থাকার চেষ্টা করবেন । কারন এখানে আপনি রাতের খাবারের পাশাপাশি নিরাপদে থাকবেন ।

শীতকালে টাঙ্গুয়ার হাওর ( অতিথি পাখি) ,টেকেরঘাট, বারেকের টিলা, যাদুকাটা নদী , ভ্রমন এর গাইডলাইনঃ

শীতকালে টাঙ্গুয়ার হাওর এর ভ্রমন রুট একটু পরিবর্তন হয় । এই রুট সম্পর্কে অনেকেই জানেন ,আবার অনেকেই জানেন না । যারা জানেন না তাদের জন্যই এই কনটেন্ট
বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে প্রথমে সুনামগঞ্জ । তারপর সুনামগঞ্জ এর নতুন ব্রিজ( আব্দুর জুহুর সেতু) /পুরাতন বাস স্টেশন থেকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক যোগে সোলেমানপুর যেতে হবে । সোলোমান পুর থেকে নৌকা দিয়ে গোলাবাড়ি / ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যাওয়া যাবে । তারপর সেখান হতে ছোট নৌকা/ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে অতিথি পাখি এবং হাওর দেখার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু । হাওর দেখা শেষ করে বড় নৌকা দিয়ে শ্রীপুর এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা । শ্রীপুর এ গিয়ে মোটরসাইকেল যোগে টেকেরঘাট , তারপর সেখান হতে বারকেরটিলা এবং যাদুকাটা নদীর পার । চাইলে নতুন ক্রেজ শিমুলবাগান ও দেখে আসতে পারেন । সবগুলা জায়গা দেখা শেষ করে সুনামগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে ব্যাক করবেন ।
FAQ:
(১) নৌকা সুলেমানপুর হতে নিতে হবে , কারণ তাহিরপুর নৌকা ঘাট/ নদীতে পানি কম ।
(২) টেকেরঘাট যেতে হলে শ্রীপুর পর্যন্ত যেতে হবে কারন, নদীতে পানি নাই । শ্রীপুর থেকে টেকেরঘাট ৩০-৪০ মিনিট নিবে ।
(৩) আপনি চাইলে এই ভ্রমন ১ দিনেও করতে পারেন অথবা দুই দিনে । সেটা নির্ভর করে আপনার উপর ।
(৪) আপনি যদি একদিনে সব গুলা স্পট কভার করতে চান, তাহলে আপনাকে খুব সকালে (৭-৮) সোলেমানপুর পৌছাতে হবে এবং নৌকা আগে থেকে ভাড়া করে রাখতে হবে । একদিনে করলে আপনার খরচ অনেক খানি কমে যাবে এবং সেক্ষেত্রে রাতে নৌকায় থাকা হবে না । আর রাতে নৌকায় থাকলে খরচ অনেকখানি বেড়ে যাবে।
(৫) আপনি এই মাসের মধ্যেই না গেলে অতিথি পাখি দেখতে পাবেন না , তাই পাখি দেখা যদি প্রধান উদ্দেশ্যে হয় তাহলে এই মাসের মধ্যেই ট্রিপ প্লান করে ফেলুন।
(৬) সবশেষে আমি যদি কোন কিছু মিস করে থাকি , তাহলে কমেন্ট এ জানান এবং আমার লেখার ভাষাগত অমিল এর জন্য দুঃখিত ।
খরচঃ
# বড় নৌকাঃ রাতে থাকলে ৪০০০-৫০০০ টাকা এবং দিনে দিনে শেষ করলে ২৫০০-৩০০০ ।
# ছোট নৌকাঃ প্রতি নৌকা ৩০০-৪০০ টাকা নিতে পারে এবং প্রতি নৌকাতে ৪-৫ জন বসা যাবে । সেক্ষেত্রে একটু বুজে শুনে নিবেন ।
# বাইকঃ শ্রীপুর থেকে বাইক টেকেরঘাট ১৫০-১৭০ টাকা এবং সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে । সেক্ষেত্রে প্রথমে বার্গেনিং করে নিবেন।
# খাবার এর খরচ নিজের উপর নির্ভর করে । তবে অতিথি পাখি দয়া করে কেউ কিনতে যাবেন না । ফেসে যাবেন ।
বোনাস টিপসঃ ২৬ মার্চ হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় তীর্থ পনাতীর্থ হবে এই যাদুকাটা নদীতে এবং শারফিন মাজারে বড় উতসব হয় । দেশ বিদেশ থেকে প্রচুর লোকের সমাগম হয় এই মহা- মেলায় । সেই সময়টাতে আসলে আপনার পরিবহন খরচ দ্বিগুন বেড়ে যাবে । আর চাইলে আসতেও পারেন – রথ ও দেখলেন, কলাও বেচলেন ।
 হাওর এর পানিতে কেউ ময়লা , আবর্জনা ফেলবেন না ।লাইফ জ্যাকেট অবশ্যই সাথে রাখবেন সবসময় বড় নৌকা ভাড়া করবেন ।
এসএম/দুর্বার২৪
দদদ

আরও পড়ুন

বিশ্বের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২১ সালের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা করেছে। যা দেখে শিক্ষার্থীরা ঠিক করতে পারে …