বৃহস্পতিবার , জুলাই ২ ২০২০
Home / ধর্ম - কর্ম / আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন যেভাবে
ক্ষমা প্রার্থনা করবেন

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন যেভাবে

পাপের সাগরে ডুবে থেকে মাঝে মাঝে মানুষ ভুলেই যায় যে, একদিন তাকে আল্লাহতায়ালার সামনে দাঁড়াতে হবে। স্বীকার করতে হবে জীবনের সব কৃতকর্ম।

দুনিয়া নিয়ে মানুষ এত পরিমাণ ব্যস্ত যে, নিজের পাপাচারের দিকে ফিরে তাকিয়ে একটিবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলারও সময় নেই। অথচ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী মুহাম্মদ (সা.) দৈনিক ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করতেন।

কোরআনের আলোকে ইস্তিগফারের গুরুত্ব
আল্লাহতায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো– الغفار তথা অতিক্ষমাশীল; যিনি বান্দার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে কোরআনে কারিমে বহু আয়াত পাওয়া যায়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী! আপনি) আমার বান্দাদের বলে দিন– নিশ্চয়ই আমি অতিক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা হিজর: ৪৯)

হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বহু হাদিসে ইস্তিগফারের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কেউ বেশি বেশি কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহতায়ালা তাকে সব প্রকার দুর্দশা থেকে মুক্তি দান করেন, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণ দান করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার পাপাচারের জন্য ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিয়মিত আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহতায়ালা তার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেবেন। তাকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা দান করবেন। এবং সে আল্লাহতায়ালার রহমতে এমন উৎস থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হবে, যা সে চিন্তাও করেনি।

 

ইস্তিগফারের পদ্ধতি

আল্লাহতায়ালার ক্ষমার দরজা সবসময় খোলা। সুতরাং আগামীকালের জন্য তওবাকে স্থগিত করা যাবে না। কেননা আগামীকাল অনিশ্চিত। তাই কোনো পাপকর্ম সাধন করার সঙ্গে সঙ্গেই ইস্তিগফারের মাধ্যমে তওবা করে নেয়া উচিত।

আল্লাহতায়ালার কাছে তওবা কবুল হওয়ার বেশ কিছু শর্ত রয়েছে-

প্রথমত অতীত গুনাহের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি প্রদানপূর্বক আল্লাহতায়ালার কাছে লজ্জিত হতে হবে।

দ্বিতীয়ত ভবিষ্যতে ওই পাপকর্ম না করার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

তৃতীয়ত আল্লাহতায়ালার কাছে নিজের কৃত অপরাধের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এবং সর্বশেষ হৃদয় থেকে ওই পাপকর্মকে ঘৃণা করতে হবে।

আর কৃত অপরাধের সঙ্গে যদি কোনো বান্দার হক জড়িত থাকে, তা হলে তা আদায় করে দিতে হবে।

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

আজ পরিত্র লাইলাতুল ক্বদর

আজ পরিত্র লাইলাতুল ক্বদর

মাহে রমজানের ২৬ তারিখ। আজ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। এ লাইলাতুল কদর গোটা মানবজাতির …