বৃহস্পতিবার , জুলাই ৯ ২০২০
Home / জাতীয় / আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের ১ বছর পূর্ণ হলো আজ

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের ১ বছর পূর্ণ হলো আজ

খান নাঈম, দুর্বার২৪ ডেস্কঃ আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের এক বছর পূর্ন হলো। গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ গেট এলাকায় নয়ন বন্ড বাহিনী স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। শত শত লোক এই নির্মম ঘটনা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখলেও কেউ রিফাত শরীফকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এই হত্যাকান্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মূহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। দেশ-বিদেশ থেকে রিফাত শরীফ হত্যাকারীদের বিচারের দাবী জানানো হয়। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রায় সময়ই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন রিফাতের মা বাবা। তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের খারাপ সময়ে কেউ পাশে থাকেনি। অভাবের সংসারের হাল ধরতে রিফাতের বোন চাকরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন। এদিকে করোনার প্রভাবে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যায়ে এসে থমকে আছে মামলার কার্যক্রম।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কলেজে আনতে যায় স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ। আগে থেকেই হত্যা পরিকল্পনা করে কলেজের সামনে ওৎ পেতে থাকে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে হামলা চালায় রিফাত শরীফের উপর। এই কিলিং মিশনে প্রায় ১৫ জন ০০৭ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য থাকে হত্যাকারীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। হত্যাকান্ডে কেউ বাধা দিলে তাদের প্রতিহত করাই ছিলো তাদের উদ্দেশ্য। আরেক গ্রুপ রিফাত শরীফকে ধরে রাখে, যাতে হত্যার সময় যেন সে পালিয়ে বাচতে না পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই মিনিটেই শেষ হয় কিলিং মিশন।

রিফাত শরীফ বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে চিকিৎস্যাধীন অবস্থায় ওই দিনই মারা যায়। দেশ ব্যাপি প্রতিবাদের ঝড়ে সমালোচিত হয় পুলিশ। ১জুলাই পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বন্ড বাহিনী প্রধান সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড। হত্যার পরিকল্পনাকারী দাবী করে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একের পর এক গ্রেপ্তার হয় আসামীরা।

শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ বরগুনা সদর উপজেলার ছয় নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবন গোলা গ্রামের আবদুল হালিম দুলাল শরীফের একমাত্র পুত্র।

রিফাত শরীফকে হারানোর এক বছরেও সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি রিফাতের মা। প্রতি দিন সকাল-বিকাল ছেলের কবরের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকেন তিনি। ছেলে হারানো শোকে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও হয়ে পরেছেন তিনি।

পরিবারের ভবিষ্যৎকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পরেছে রিফাতের বাবা-মা। তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের এই খারাপ সময়ে পাশে পায়নি কেউকে।

রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যুর পরে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাকে। তবে সরকার একটি চাকরির ব্যবস্থা করলে অসুস্থ্য বাবা-মায়ের সেবা করতে পারতেন তিনি।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু বলেন, শেষের পথে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। এরপর যু্ক্তি তর্ক শেষেই রায় ঘোষনা করবেন বিচারক।

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পালিত হয়েছে মানববন্ধন। আলোড়িত হয়েছে বিশ্ববিবেক।

বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলাটি দ্রুতগতিতে চললেও সাম্প্রতিককালের প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের কারনে সব থেমে গেছে। আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ না হলে হয়ত এতদিনেই মামলার রায় ঘোষণা হত। শোকাভিভূত মানুষগুলো স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতো।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দুলাল শরীফ আজ দিশেহারা। বুকের উপর জমাট বাঁধা শোকার্ত পাথরটি কেউ সরাতে পারবে না হয়ত। আদালতের ন্যায় বিচার, সকলের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, একমাত্র সন্তান ইসরাত জাহান মৌ’র যথাযোগ্য কর্মসংস্থান প্রাপ্তি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিবে নিহত রিফাত শরীফের পরিবারকে। এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন- 

 

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

নমুনা পরিক্ষা নিয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার

জাতীয় : করোনা শনাক্তের জন‌্য নমুনা পরীক্ষা, সনদ দেয়া ও প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব …