বুধবার , অক্টোবর ২৮ ২০২০
Home / ফিচার / আমার মা-বনলতা প্রিয়াংকা

আমার মা-বনলতা প্রিয়াংকা

মা দিবসে সবাই মাকে নিয়ে অনেক ছবি দেয় বি‌ভিন্নভা‌বে ম‌নের অপ্রকা‌শিত কথায় হালকা ক‌রে বুকটা‌কে। আমি মনের ভুলেও সেটা ক‌রি না। কারণ প্রতিটা দিনই‌তো আমা‌দের কা‌ছে মা দিবস। মা`ময় ৩৬৫ দিনই আমার।

আজ হঠাৎ ক‌রেই লিখ‌তে বসলাম। ম‌নের খেয়াল কিংবা বু‌কে জমা‌নো কথাগু‌লো উগ‌ড়ে দি‌তে। বুকটা‌কে একটু হালকা কর‌তে। মা‌য়ের জন‌্য সুদীর্ঘ দি‌নের জ‌মে থাকা কথাগু‌লো‌কে প্রকাশ করার তা‌গিদ থে‌কে। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত মাকে ছাড়া আসলে এক‌টি মূহুর্তও চ‌লে না আমার। লেখার সা‌থে সংযুক্ত ছবিখানা আমার মায়ের। একটু খেয়াল কর‌লেই বোঝা যায় আমার মা যেমন রাঁধতেও জানে তেমনি জা‌নেন চুল বাঁধতেও। এক কথায় দশভূজা। য‌দিও সেটা আমার বাবার প্রশ্রয়েরই ফসল।

ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি মা‌য়ের কর্মময় ব‌্যস্ততার চাল‌চিত্র। ঘর সামলে কর্মক্ষেত্র স্কুল। আত্মীয়-অনাত্মীয়তার বেড়ী ভে‌ঙ্গেও প্রতি‌বেশী কিংবা পথচারীর পা‌শে দাঁড়া‌নোটা যার নিত‌্য-‌নৈ‌বে‌র্তিক ব‌্যাপার। সবসময়ই সবার সমস্যা সমাধানে তার নিরন্তর ব্যস্ততা। সবাই‌কে নি‌য়ে ভাল থাকার নিরন্তর প্রচেষ্টা। সে হোক স্বজন কিংবা দূরজন। হোক প্রতিবেশী কিংবা এলাকার। তবে নীতি-‌নৈ‌তিকতা তথা আদর্শের সাথে আপোষ করতে দেখিনি কখ‌নো। ক‌রেন‌নি অন্যায় তথা অমান‌বিকতার কাছে মাথানত কখ‌নোই। বরং সোজাসাপ্টা ক‌ণ্ঠে ক‌রতে দে‌খে‌ছি প্রতিবাদ। তাই হয়‌তো অনেকের কাছে হ‌য়ে‌ছেন বেশ অপ্রিয় নারী।

পরিবারের প্রতিটি মেয়েকেই নিজ হাতে ক‌রে‌ছেন উচ্চ শিক্ষায় শি‌ক্ষিত। করেছেন তাদের প্রত্যেকের পায়ের নিচের মাটি‌কে শক্ত-‌পোক্ত। এই জন্যই হয়‌তো আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, ঘটক কিংবা ছেলে পক্ষের কাছে সে মস্ত এক খলচ‌রিত্র! তাই হয়‌তো যেসব মানুষের কষ্ট লাঘ‌বে পা‌শে ছি‌লেন, দিন শেষে তারাই তার প্রধান শত্রু! সবার সমালোচনার বিষয় হ‌য়ে ও‌ঠেন আমার মা! আমার কিন্তু এস‌বে কোন প্রকার মাথা ব্যথা নেই। কারণ আমি জানি “উপকারীকে বাঘে খায়।” যদিও এও জানি আমার মা এলাকার অনেক নারীর কাছেই এক আদর্শের নাম।

অনুকরণ কিংবা অনুসরণ করেন ঠিক তা‌কেই। আমার একটা সরল স্বীকার‌ক্তি, আজ পর্যন্ত আমার সকল প্রা‌প্তির প্রায় সবটাতেই র‌য়ে‌ছে তার অনবদ‌্য অবদান। যদিও দিন শেষে আমিও আমার মাকে একটু অপছন্দই করি! সে নেহাৎই ঈর্ষা‌বোধ। কারণ আমার কেন যেন মনে হয় আমার মা, আমার বোনকে একটু বেশিই ভালবাসে। সবশেষে একটাই কথা।

কোন দিন মা হওয়ার সুযোগ হ‌লে, ই‌চ্ছেটা থাক‌বে আমার মায়ের মতোই সৎ, আদর্শবান, নীতিবান আর সাহসী মা হওয়ার। অর্থাৎ সক‌লের প্রচ‌লিত ভাষায় “খারাপ মা” হবারই দৃঢ় প্রত‌্যয়।

লিখেছেন- বনলতা প্রিয়াংকা

 

 

 

কেএন/দুর্বার

আরও পড়ুন

সংগীত

গুরুবিহীন সংগীত অভিযাত্রার আগামী সংকট

সংগীত গুরুমুখী বিদ্যা তা আমরা কম-বেশি সকলেই জানি। শিক্ষা জীবনের শুরুতে যেমন অক্ষরজ্ঞান প্রয়োজন হয় …